যোগায‌োগ:

অনলাইন সাহিত্য ও সংবাদ ম্যাগাজিন।


সুকান্তপল্লী,নিশ্চিন্তপুর,রামপুরহাট,বীরভূম,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত

Friday, October 10, 2014

ছড়া:ফুল ফোটে


ফুল ফোটে @ তুষার আহাসান ফুল ফোটে ফাল্গুনে ফুল ফোটে জোছনায় বনে বনে ফুল ফোটে মনের তো দোষ নাই। ধারাপাতে ফুল ফোটে ফুল ফোটে রোদ্দুরে নীলাকাশে ফুল ফোটে কখনও সমুদ্দুরে। ফুল ফোটে শুকতারা ফুল ফোটে সুখ চাঁদ নদীতেও ফুল ফোটে হিসেবে আয়েশী বাঁধ। ফুল ফোটে হাসি ছুঁয়ে ফুল ফোটে কান্নায় ঘরবাড়ি ভেঙে ফুল ফুটে ওঠে বন্যায়। ফুল ফোটে কুঁড়ি ঙেঙে ফুল ফোটে পাহাড়ে ফুল ফোটে কথাকলি রঙধনু বাহারে। *

গল্প:লাল কালির বৃত্ত


লাল কালির বৃত্ত @তুষার আহাসান সকালবেলা গঙ্গাস্নান করলে সারাদিন মন ভাল থাকে।কলকাতায় থাকতে তাই করতেন রাঘব। এখন মেয়ের বাড়িতে এসে তার ব্যতিক্রম হয়নি। মনেমনে নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দেন রাঘব,তাঁর জন্ম,কর্ম,সবই গঙ্গার তীরে! মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন গঙ্গার তীর-ঘেঁষা বাড়িতে।জামাই কলেজের অধ্যাপক। রাঘবকে দেখে সর্বদা বিগলিত।সবসময় বলে, ‘বাবা,আপনার কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো? শুচি,তুমি কিন্তু বাবার সুবিধে-অসুবিধে গুলো একটু নজর রেখো।’ মেয়ে সুচেতা হাসে।বলে,‘বাবার দিকে আমি খেয়াল রাখি,তোমাকে ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না।’ জামাই হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে যায়।কখনও কলেজ,কখনও টিউটোরিয়াল হোম। তবে রাতে খাওয়ার সময় বলে, ‘বাবা,ইলিশ মাছ খেতে ডাক্তার আপনাকে বারণ করেনি, কাল তাহলে দই-ইলিশ হয়ে যাক।’ রাঘব বলেন,‘আমি কি খাব না খাব সব আমার মেয়ে ঠিক করে দেয়।বেশ, তোমার যখন ইচ্ছে,কাল আমি দই-ইলিশই খাব।’ শ্বশুর-জামাইয়ের কথায় ফুলের হাসি হাসে সুচেতা।সে বলে,‘আমি যখন ছোট ছিলাম সবকিছু বাবার রুটিনমাফিক করতে হত,এখন এখানে বাবা আমার রুটিন মত চলছেন’। ---‘তারমানে তুমি বাবাকে তাঁর নিজের মত থাকতে দিচ্ছো না?’ ---‘আরে না,না,আমি এখানে নিজের মতই আছি,শুচি তো আমাকে কত বারণ করে ভোরবেলা গঙ্গাস্নান করো না,আমি কি তা শুনছি।’ বলে দরাজ হাসি হাসেন রাঘব। গঙ্গাস্নান সেরে ফিরে রাঘব দেখলেন,সুচেতা তার জন্যে চা তৈরী করেছে।টেবিলে রাখা আছে ইংরেজী,বাংলা দুটি দৈনিক। চা খেতে খেতে সংবাদপত্রে চোখ রাখলেন রাঘব।একটা সংবাদে চোখ আটকে গেল তাঁর। ছোট্ট একটা দূর্ঘটনার সংবাদ।এক সাইকেল আরোহীকে পিষে দিয়ে চলে গেছে মালবাহী ট্রাক। এমন তো কতই ঘটছে রাতদিন! কিন্তু দূর্ঘটনা শব্দটি লাল কালি দিয়ে ঘিরে রেখেছে কেউ। জামাই মর্ণিং-ওয়াকে গেছে। সে যখন বেরিয়ে যায় তখন খবরের কাগজ আসে না। নাতি অর্ণব হোস্টেলে আছে।রোববার সে আসবে তার দাদুকে দেখতে। তবে কি সুচেতা? ---‘কাগজ পড়তে-পড়তে কি অত ভাবছো বাবা’? সুচেতার কথায় সম্বিত ফিরে পেলেন রাঘব। বললেন, ‘ভাবছি দূর্ঘটনা শব্দটি কে যেন লাল কালিতে ঘিরে রেখেছে।’ ---‘ ওই দাগটা আমিই দিয়েছি?’ --- ‘কেন বল তো?’ ---ও কিছু নয়,ছেলেমানুষী খেয়াল বাবা।’সুচেতার কথায় আর হাসিতে যেন ফুলের পাপড়ি ঝরে পড়ল। ফের খবরের কাগজে মন দিলেন রাঘব। সুচেতা তাঁকে লক্ষ্য করতে থাকল। রাঘব ঘোষাল,এককালের দাপুটে নেতা।তাঁর ভয়ে বাড়ি এবং এলাকার লোক কাঁপত। এখন তিনি মৃত-সূর্য। নতুন সব নেতা উঠে এসেছে রাজনীতির অঙ্গনে।রাঘবের কোন কদর নেই। শরীরও ভেঙে গেছে রাঘবের।পেটে আলসার।মাথায় টাঁক।চশমার পাওয়ার দিন-দিন বাড়ছে।স্ত্রী-বিয়োগের পর সংসার থেকে বিবাগী হয়েছেন।মাসের পর মাস ছেলে-মেয়েদের বাড়ি বেড়িয়ে ফিরছেন।নাতি-নাতনিদের উপহার দিচ্ছেন। মুখটা সব সময় হাসিখুশি রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।যা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়,তিনি শান্তি পাচ্ছেন না। রাঘব কাগজ পড়তে পড়তে খেয়াল করলেন,সুচেতা দাঁড়িয়ে আছে।আঙুলে শাড়ির আঁচল পাক দিচ্ছে সে।বললেন,‘কিছু বলবি?’ ---‘ বাবা তোমার মনে আছে,আমাদের বাড়ির সামনে এমনই একটা দূর্ঘটনা ঘটেছিল?’ ---‘তাই বুঝি,কোন ইয়ারে বল তো?’ ---‘আমি তখন ফার্ষ্ট-ইয়ারে পড়ি?’ ভুরু কুঁচকে গেল রাঘবের।মেয়ের ভাবগতিক আজ সুবিধের মনে হচ্ছে না। অন্যদিন এ সময়ে সে কিচেনে চলে যায়।গেরস্থালী নিয়ে ব্যস্ত হয়। আজ কেন সেই কলেজ-জীবনের মত আদুরে গলায় কথা বলছে?ঝানু নেতার মত নিজেকে সামলে নিয়ে রাঘব বললেন,‘ হবে হয়ত,কত কিছুই তো ঘটছে জীবনে,সব কি আর মনে রাখতে পারি?’ ---‘আমার মনে আছে বাবা,ছেলেটা আমার সহপাঠী ছিল,আমি খুব কেঁদেছিলাম।’ বলতে গিয়ে পুরোন কান্নাটাই যেন এখনকার চোখে চলে এল সুচেতার। বিব্রত রাঘব।তাঁর স্মৃতিশক্তি দূর্বল নয়।সেই ছেলেটার নাম-ধাম,চেহারার স্পষ্ট বর্ণনা দিতে পারেন তিনি।তবে এখন তা করবেন না।মেয়েকে সেদিন তিরস্কার করেছিলেন। সে ছিল এক যুদ্ধজয়ের আনন্দ।মেয়েকে সেদিন যেমন ভালবাসতেন।আজও বাসেন।মেয়ের সুখের সংসার দেখে এখন তিনি নিশ্চিত,সেদিনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। সুচেতা কি সুখী হয়নি? গোবিন্দর মত ভাল বর ক’জন মেয়ের ভাগ্যে জোটে? সাজানো সংসার।নিরিবিলি জীবনযাপন।ঝরণার মত স্বচ্ছ,একমুখী।এই ধারা বহমান হওয়ার আগে দু-একটি পাথর সরাতেই হয়।সমাজের জঞ্জাল সাফ করার দায়িত্বে রাঘবও সরিয়েছেন। পাথর না সরালে হয়ত সুচেতা সেই চায়ের দোকানীর ছেলের হাত ধরত। চায়ের দোকানের এঁটো গেলাস ধুতে-ধুতে হয়ত একদিন ‘পয়সাওয়ালা’র বউ হতে পারত। তবে তাতে স্বীকৃতি থাকত তালের রসের মত। সকালবেলা রস,দুপুর হলেই তাড়ি। মুখে একটা দু:খের ভাব ফুটিয়ে রাঘব বললেন, ‘পুরোন দিনের কথা মনে করে কষ্ট পেয়ে কি লাভ,এখনকার মত বাঁচ মা,বেঁচে সুখী হ।’ ---‘না,না,কষ্ট আমি পাইনি বাবা,তুমি জিজ্ঞেস করলে,দূর্ঘটনা শব্দটিতে লাল কালির দাগ কেন দিয়েছি,তাই বললাম।খবরের কাগজে দূর্ঘটনা শব্দটি দেখলেই আমি এমন করি।তোমার জামাই টের পায়না।’ ---‘বুঝেছি মা বুঝেছি,আমাদের জীবনের কিছু অংশ লাল কালির দাগ দিয়ে ঘেরা থাকে,তাকে নড়ালেই রক্তাক্ত হতে হয়।’ উদাস হয়ে গেছেন রাঘব।সুচেতা বলল, ‘তোমার চা জুড়িয়ে গেছে বাবা,আর এক কাপ এনে দিচ্ছি, এক্ষুণি।’

Sunday, June 16, 2013

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১৪৮

(১) শিক্ষকঃ এই যে আমি ব্যাঙটা কাটলাম,তোমরা নিশ্চয় খেয়াল করে দেখেছো? ছাত্রছাত্রীরা সমবেত স্বরেঃহ্যাঁ স্যার। শিক্ষকঃ ভেরী গুড,মানুষের পেট এভাবে কাটলে আমি কি-কি দেখবো? অত্যুৎসাহী এক ছাত্র বললঃ আগে পুলিশ তারপর জেলখানা। (২) কবর খোঁড়ার কাজ করে এমন একজন শহরের রাস্তায় হাঁটছিল।পেছনে একজন ডাক্তার আসছেন দেখে সে পথ ছেড়ে দিল।বললঃ আপনি আগে থাকুন ডাক্তারবাবু। ডাক্তারঃ কেন বলতো? কবরখোদকঃ পেশায় আপনার পরে আমার স্থান কিনা। (৩) এক বুড়ো ফকির গোরস্থানে বসে আছে। কয়েকজন রাখাল তাকে উত্তক্ত করছে। ফকির নির্বিকার। শেষে এক রাখাল তার তাপ্পিমারা ঝোলাটা নিয়ে মারল ছুট। অন্যরা বললঃধরুন,ওকে ধরুন,ও আপনার ঝোলা নিয়ে পালাল। ফকির শান্ত স্বরে বললঃ পালিয়ে যাবে কতদূর,ওকে এখানেই আসতে হবে। (৪) ছেলেঃ জানো মা আমি একটা নাটকে অভিনয় করছি। মাঃ তাই নাকি,তা কিসের রোলে তুমি অভিনয় করছো? ছেলেঃ একজন বিবাহিত পুরুষের রোল। মাঃ তারমানে এই নাটকে তোমার কোন ডায়লগ নেই। (৫) বাবা ছেলে পড়াচ্ছেন দাস-প্রথার ইতিহাস। এমন সময় গিন্নি হাঁক ছাড়লেন,বাজারটা কি আজ আসবে না? বাবা মৃদু হেসে ছেলেকে বললেনঃ এই দাস-প্রথার কথা ইতিহাস লেখে না,তবু আগামীর কথা ভেবে তুমি জেনে রাখো,এর নাম ঘরোয়া দাস-প্রথা।

Monday, June 10, 2013

কবিতা:চৈতালী-লোক

কবিতা:চৈতালী-লোক @ তুষার আহাসান আলোক-সন্ধ্যায় রোজ রাজপথ ছাড়ি সুলভের হাতছানি ঘুঙুরে-মাদলে আলে শুয়ে থাকা কাদমাটি-জোছনা কুয়াশায় ভিজে যাওয়া বৃষ্টি-আদলে। বিষুবরেখায় জাগে জীবনের পাকদন্ডী তপস্যা-পাথর চোখের ভেতর ওড়া প্রজাপতি ধরি বেহিসেবী কথা বলে ঝিনুকে-শামুকে জল ছিটিয়ে ভেঙে দিই আলো বিভাবরী। বুনো ঘোড়ার শব্দে জাগে রাত তারার কাছেই ছিল ভোরের সুখবর ধানজমি কথা দেয় উর্বরতার অবকাশে পাখির ডানায় বাঁচে পাতার বিবর ওড়ার বাজনা বাজে সুখ রাজ্যময় সর্পিল শব্দে গাঁথা শাপান্তের শোক হেঁটে চলা আদিম পায়ে জন্মান্তরের দাগ শিশুর হাসিতে ভোলা চৈতালী-লোক।

Sunday, June 9, 2013

আমার ধরা খাওয়া-1

আমার ধরা খাওয়া-১ জীবন আমাকে তার প্রতিটি বাঁকে চমক দেখায়। সেই চমকের কিছু গল্প ‘জীবনের প্রতি বাঁকে আশ্চর্য চমক’ শিরোনামে লিখছি। এই সিরিজে আমি বলব আমার ধরা খাওয়ার গল্পগুলি। নতুন বাড়ির ইলেকট্রিক ওয়ারিং করতে হবে। গেলাম বিখ্যাত একটা দোকানে।বললাম,একটা ভাল ওয়ারিং মিস্ত্রির খোঁজ দিতে পারেন। দোকানদার বলল: একটা কেন একশটার খোঁজ দিতে পারি। আমি বললাম:একশটা নিয়ে আমি কি করব,আমার দরকার একজন দক্ষ ও সৎ মিস্ত্রি। ---পাবেন,এখানেই পাবেন।একটু বসুন। দোকানদার মোবাইল কল করল।আমি বসলাম। এক ঘন্টা হয়ে গেল তবু মিস্ত্রি আসে না। বললাম: আপনার মিস্ত্রি কি দুবাইয়ে থাকে। ---আরে না,না,সে এই পাশের বাড়িতে ওয়ারিং করছে,বিশ্বস্ত কিনা,তাই হাতের কাজ ছেড়ে আসতে পারছে না। আরো একঘন্টা পরে মিস্ত্রি এল। বললাম,একটা ষোল বাই চৌদ্দ ঘর ওয়ারিং করতে কি-কি মাল লাগবে লিস্ট তৈরী করুন। মিস্ত্রি বলে আর দোকানদার লেখে। বিশাল ফর্দ তৈরী হল। আমি একশ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে বললাম,কাল এসে মাল সব নিয়ে যাব। পরদিন বিকেলে এমন বৃষ্টি এল,ঘর থেকে বের হতে পারলাম না। পরদিন সকালে গিয়ে দেখি দোকানে শাটার ফেলা।দোকান বন্ধ। মিস্ত্রিকে ফোন করলাম।মিস্ত্রি এল।বলল,ওর ছেলে অসুখ,ডাক্তার দেখাতে গেছে।চলুন অন্য দোকানে যাই। ---কিন্তু আমার অ্যাডভান্সের টাকা? ---ওটা দিয়ে পরে অন্য কোন মাল নিয়ে নেবেন। অন্য দোকানে মালপত্র কেনা হল। ওয়ারিংও হয়ে গেছে।মিস্ত্রির কাছেও ধরা খেয়েছি,সে গল্প আগামী পর্বে বলব। সে প্রায় দুমাস আগের কথা,এখনও সেই দোকানদারের দোকান বন্ধ।ছেলের চিকিৎসা করাতে বোধহয় দক্ষিণ ভারত গেছে।কবে ফিরবে কে জানে।আমার অ্যাডভান্সের কথা তার মনে থাকবে কিনা কে জানে। এখন যখন আমি ওই রাস্তায় যাই বন্ধ থাকা দোকানটিকে একবার দেখি। মনে ভাবি,আমার বয়সী লোকরা তো এখন যে-যেদিকে পারছে টাকা ইনকাম করছে। টাকাই নাকি তাদের হাতে ধরা দিচ্ছে! আর আমি কিনা এই বয়সে নগদ ১০০ টাকা ধরা খেলাম!!!!!!!!!!!!