যোগায‌োগ:

অনলাইন সাহিত্য ও সংবাদ ম্যাগাজিন।


সুকান্তপল্লী,নিশ্চিন্তপুর,রামপুরহাট,বীরভূম,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত

Sunday, June 16, 2013

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১৪৮

(১) শিক্ষকঃ এই যে আমি ব্যাঙটা কাটলাম,তোমরা নিশ্চয় খেয়াল করে দেখেছো? ছাত্রছাত্রীরা সমবেত স্বরেঃহ্যাঁ স্যার। শিক্ষকঃ ভেরী গুড,মানুষের পেট এভাবে কাটলে আমি কি-কি দেখবো? অত্যুৎসাহী এক ছাত্র বললঃ আগে পুলিশ তারপর জেলখানা। (২) কবর খোঁড়ার কাজ করে এমন একজন শহরের রাস্তায় হাঁটছিল।পেছনে একজন ডাক্তার আসছেন দেখে সে পথ ছেড়ে দিল।বললঃ আপনি আগে থাকুন ডাক্তারবাবু। ডাক্তারঃ কেন বলতো? কবরখোদকঃ পেশায় আপনার পরে আমার স্থান কিনা। (৩) এক বুড়ো ফকির গোরস্থানে বসে আছে। কয়েকজন রাখাল তাকে উত্তক্ত করছে। ফকির নির্বিকার। শেষে এক রাখাল তার তাপ্পিমারা ঝোলাটা নিয়ে মারল ছুট। অন্যরা বললঃধরুন,ওকে ধরুন,ও আপনার ঝোলা নিয়ে পালাল। ফকির শান্ত স্বরে বললঃ পালিয়ে যাবে কতদূর,ওকে এখানেই আসতে হবে। (৪) ছেলেঃ জানো মা আমি একটা নাটকে অভিনয় করছি। মাঃ তাই নাকি,তা কিসের রোলে তুমি অভিনয় করছো? ছেলেঃ একজন বিবাহিত পুরুষের রোল। মাঃ তারমানে এই নাটকে তোমার কোন ডায়লগ নেই। (৫) বাবা ছেলে পড়াচ্ছেন দাস-প্রথার ইতিহাস। এমন সময় গিন্নি হাঁক ছাড়লেন,বাজারটা কি আজ আসবে না? বাবা মৃদু হেসে ছেলেকে বললেনঃ এই দাস-প্রথার কথা ইতিহাস লেখে না,তবু আগামীর কথা ভেবে তুমি জেনে রাখো,এর নাম ঘরোয়া দাস-প্রথা।

Monday, June 10, 2013

কবিতা:চৈতালী-লোক

কবিতা:চৈতালী-লোক @ তুষার আহাসান আলোক-সন্ধ্যায় রোজ রাজপথ ছাড়ি সুলভের হাতছানি ঘুঙুরে-মাদলে আলে শুয়ে থাকা কাদমাটি-জোছনা কুয়াশায় ভিজে যাওয়া বৃষ্টি-আদলে। বিষুবরেখায় জাগে জীবনের পাকদন্ডী তপস্যা-পাথর চোখের ভেতর ওড়া প্রজাপতি ধরি বেহিসেবী কথা বলে ঝিনুকে-শামুকে জল ছিটিয়ে ভেঙে দিই আলো বিভাবরী। বুনো ঘোড়ার শব্দে জাগে রাত তারার কাছেই ছিল ভোরের সুখবর ধানজমি কথা দেয় উর্বরতার অবকাশে পাখির ডানায় বাঁচে পাতার বিবর ওড়ার বাজনা বাজে সুখ রাজ্যময় সর্পিল শব্দে গাঁথা শাপান্তের শোক হেঁটে চলা আদিম পায়ে জন্মান্তরের দাগ শিশুর হাসিতে ভোলা চৈতালী-লোক।

Sunday, June 9, 2013

আমার ধরা খাওয়া-1

আমার ধরা খাওয়া-১ জীবন আমাকে তার প্রতিটি বাঁকে চমক দেখায়। সেই চমকের কিছু গল্প ‘জীবনের প্রতি বাঁকে আশ্চর্য চমক’ শিরোনামে লিখছি। এই সিরিজে আমি বলব আমার ধরা খাওয়ার গল্পগুলি। নতুন বাড়ির ইলেকট্রিক ওয়ারিং করতে হবে। গেলাম বিখ্যাত একটা দোকানে।বললাম,একটা ভাল ওয়ারিং মিস্ত্রির খোঁজ দিতে পারেন। দোকানদার বলল: একটা কেন একশটার খোঁজ দিতে পারি। আমি বললাম:একশটা নিয়ে আমি কি করব,আমার দরকার একজন দক্ষ ও সৎ মিস্ত্রি। ---পাবেন,এখানেই পাবেন।একটু বসুন। দোকানদার মোবাইল কল করল।আমি বসলাম। এক ঘন্টা হয়ে গেল তবু মিস্ত্রি আসে না। বললাম: আপনার মিস্ত্রি কি দুবাইয়ে থাকে। ---আরে না,না,সে এই পাশের বাড়িতে ওয়ারিং করছে,বিশ্বস্ত কিনা,তাই হাতের কাজ ছেড়ে আসতে পারছে না। আরো একঘন্টা পরে মিস্ত্রি এল। বললাম,একটা ষোল বাই চৌদ্দ ঘর ওয়ারিং করতে কি-কি মাল লাগবে লিস্ট তৈরী করুন। মিস্ত্রি বলে আর দোকানদার লেখে। বিশাল ফর্দ তৈরী হল। আমি একশ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে বললাম,কাল এসে মাল সব নিয়ে যাব। পরদিন বিকেলে এমন বৃষ্টি এল,ঘর থেকে বের হতে পারলাম না। পরদিন সকালে গিয়ে দেখি দোকানে শাটার ফেলা।দোকান বন্ধ। মিস্ত্রিকে ফোন করলাম।মিস্ত্রি এল।বলল,ওর ছেলে অসুখ,ডাক্তার দেখাতে গেছে।চলুন অন্য দোকানে যাই। ---কিন্তু আমার অ্যাডভান্সের টাকা? ---ওটা দিয়ে পরে অন্য কোন মাল নিয়ে নেবেন। অন্য দোকানে মালপত্র কেনা হল। ওয়ারিংও হয়ে গেছে।মিস্ত্রির কাছেও ধরা খেয়েছি,সে গল্প আগামী পর্বে বলব। সে প্রায় দুমাস আগের কথা,এখনও সেই দোকানদারের দোকান বন্ধ।ছেলের চিকিৎসা করাতে বোধহয় দক্ষিণ ভারত গেছে।কবে ফিরবে কে জানে।আমার অ্যাডভান্সের কথা তার মনে থাকবে কিনা কে জানে। এখন যখন আমি ওই রাস্তায় যাই বন্ধ থাকা দোকানটিকে একবার দেখি। মনে ভাবি,আমার বয়সী লোকরা তো এখন যে-যেদিকে পারছে টাকা ইনকাম করছে। টাকাই নাকি তাদের হাতে ধরা দিচ্ছে! আর আমি কিনা এই বয়সে নগদ ১০০ টাকা ধরা খেলাম!!!!!!!!!!!!

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১৪৭

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১৪৭ (১) স্বামীঃ আজ আমাদের ২৫তম বিবাহবার্ষিকী,কত আনন্দেই কেটেছে বছরগুলো,কী-গো কাটেনি? স্ত্রীঃ হ্যাঁ, কেটেছে। স্বামীঃ আমি তোমাকে কেমন আনন্দ দিয়েছি গো? স্ত্রীঃ সত্যি বলব? স্বামীঃ হ্যাঁ,বল,আজ সত্যি বলার দিন,আমি তোমাকে কেমন আনন্দ দিয়েছি? স্ত্রীঃ সার্কাসের জোকারের মত। (২) পিচ্চিঃ মা,তুমি কি লাভ ম্যারেজ করেছিলে। মাঃ হ্যাঁ,সোনামণি। পিচ্চিঃ আমি তোমাদের ভালবাসার ফসল। মাঃ হ্যাঁ,বাবা,হ্যাঁ। পিচ্চিঃ তারমানে আমার জন্মানো তোমাদের ক্ষেত্রে জরুরী ছিল। মাঃ হ্যাঁ,তা ছিল।কিন্তু এসব কথা এখন কেন।কি হয়েছে বল,আমি তোকে সব বুঝিয়ে বলব। পিচ্চিঃ আমাকে বোঝানোর দরকার নাই,আমার স্কুলের ম্যাডাম কে বোঝাও তো একটু,সে আমার নামে রেপ কেস করতে থানা যাচ্ছে। (৩) বরঃবিয়ে হল একটা বন্ধন। বউঃ তা আর বলতে,দড়ি দিয়ে বাধাঁর মত। বরঃতাই-তো সংসার-ধর্ম এত সুখের। বউঃ হ্যাঁ,সুখের হয় তখনই যখন দড়িটার একপ্রান্ত তোমার গলায় আর অন্য প্রান্ত আমার হাতে থাকে।

Saturday, June 8, 2013

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১৪৫

সবকিছু হাসির বিষয় নয়-১৪৫ (১) ৫০ তম বিবাহ বার্ষিকীর রাতে ফুলশয্যায় শুয়ে স্বামী বললঃ এতগুলো বছর তোমাকে আনন্দ দিয়েছি কিন্তু একটা প্রশ্ন আমার মনে খচখচ করে,বলো সত্যি বলবে। বউঃ আজ যা বলব,সত্যিই বলব। স্বামীঃ আমাদের সাত সন্তানের মধ্যে ছোটজনের চেহারা একেবারেই আলাদা,সত্যি করে বলো ওর বাবা অন্য কেউ? বউঃ হ্যাঁ। স্বামীঃ কে সেই শয়তান? বউঃ তুমি। (২) বাবাঃ বাড়ি ফিরতে রাত দুটো হলো কেন? ছেলেঃ নাটকের রিহ্যাসাল ছিল বাবা। বাবাঃ কোন রোল করছিস? ছেলেঃ শাহজাহানের সেনাপতি। বাবাঃ সেনাপতি বলেই রাত দুটো,শাহাজাহানের রোল নিলে নিশ্চয় বাড়িই ফিরতি না। (৩) স্বামীঃ আমি যদি লটারীতে টাকা পাই,তুমি কি করবে। স্ত্রীঃ অর্ধেক টাকা নিয়ে পালাব। স্বামীঃ সত্যি? স্ত্রীঃসত্যি!সত্যি!সত্যি! স্বামীঃ লটারীতে ৫০ টাকা পেয়েছি,এই নাও ২৫ টাকা,আর আমার চোখের সামনে থেকে বিদেয় হও। (৪) সেলসম্যানঃ আরশোলার পাউডার নেবেন বউদি? গিন্নীঃ না,দরকার নাই। সেলসম্যানঃ নিন না বউদি,এটা খুব দরকারী। গিন্নীঃ না,আজ পাউডার দিলে কাল লিপিস্টিক চাইবে,আমরা আরশোলাদের অত ভালবাসি না।

Monday, June 3, 2013

গান

নিঃশ্বাসে বিশ্বাসে ছুটে চলি ইতিহাসে বিকেলের সুবাসে যদি সে চলে আসে। এ হেন আষাঢ় মাসে বৃষ্টির উল্লাসে ভিজে যায় দুজনায় যদি সে ভালবাসে।